বানের জলে ভাসছে চকরিয়া-মাতামুহুরী,বেড়িবাঁধ ভেঙে চরম দুর্ভোগে মানুষ
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টানা পাঁচ দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে দুই উপজেলার অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অনেক এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান,চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একাধিক স্থানে পানি বাড়তে দেখা গেছে। অতীতে এসব এলাকায় এভাবে পানি জমতে বা সড়ক প্লাবিত হতে দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ আজ ভোরে ভেঙে নতুন,নতুন এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করছে। ইতিপূর্বে দুই উপজেলার দুই লক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের মতে,অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অনেক গ্রামে পানি নিষ্কাশন স্থবির হয়ে পড়েছে।
বন্যার পানির তোড়ে আমন বীজতলা ও সবজি ক্ষেত ভেসে গেছে এবং শত শত চিংড়ির ঘের ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্য চাষিরা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন। সুপেয় পানির সংকট এবং শুকনো খাবারের অভাবে পানিবন্দি মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং দুর্গত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন।
এ সময় তিনি বলেন,প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। দ্রুত ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তার।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় (৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।