Breaking News

চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ২লাখ লোক পানি বন্দী

মোহাম্মদ উল্লাহ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ২লাখ লোক পানি বন্দী ছবি: NewsBangla.net
চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ২লাখ লোক পানি বন্দী ছবি: NewsBangla.net

মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে: 

 

চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ২লাখ লোক পানি বন্দী 

 

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

 

টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। 
পার্বত্য অববাহিকা থেকে ধেয়ে আসা ঢলের কারণে মাতামুহুরী নদীর পানি হু-হু করে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১.৮০ মিটার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়,  চকরিয়া উপজেলার বরইতলী,বমুবিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা,লক্ষ্যারচর,চিরিংগা, ফাঁসিয়াখালী,কৈয়ারবিল, হারবাং ইউনিয়নের নিচু এলাকা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 
অপরদিকে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া,কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের শত শত ঘরবাড়িতে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা,যার ফলে অনেক এলাকা উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 
গ্রামীণ কাঁচা ঘরবাড়ি,ফসলি জমি এবং অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 
চকরিয়া পৌরশহরের হাসপাতাল পাড়া,থানা সেন্টার ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করতে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, চারদিন ধরে ভারী বর্ষণের কারণে নিম্নাঞ্চলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের সবকটি স্লুইসগেটের কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
 দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় প্রশাসনের সব বিভাগকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 
ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই উপজেলার পাহাড়ের খাদ, টিলা ও ঢালু এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আরও দুই দিন এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে সর্বসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL