Breaking News

পেকুয়ায় ভাঙাচোরা সড়কে সংস্কারকাজ শুরু, স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে

মোহাম্মদ উল্লাহ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
পেকুয়ায় ভাঙাচোরা সড়কে সংস্কারকাজ শুরু, স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে ছবি: NewsBangla.net
পেকুয়ায় ভাঙাচোরা সড়কে সংস্কারকাজ শুরু, স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে ছবি: NewsBangla.net

পেকুয়ায় ভাঙাচোরা সড়কে সংস্কারকাজ শুরু, স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা চইরভাঙা এলাকায় দীর্ঘদিনের অবহেলিত একটি সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। চইরভাঙা জামে মসজিদ থেকে পশ্চিমপাড়া কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় ২০ চেইন সড়কের এ সংস্কারকাজে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে সংস্কারবিহীন থাকা সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছিল।
জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে এগিয়ে এসেছেন সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহেদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ইট ও বালু দিয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে সড়কটিতে ইটের সলিং করা হলেও এরপর আর কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। সময়ের ব্যবধানে সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এই সড়ক দিয়ে হরিণাফাঁড়ি, তেলিয়াকাটা, মচিন্যাকাটা, খাসপাড়া এবং চইরভাঙা পূর্বপাড়া-পশ্চিমপাড়াসহ আশপাশের অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক ইট ও বালু দিয়ে সংস্কারকাজে ব্যস্ত রয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকটি ডাম্পার ট্রাকে নির্মাণসামগ্রী আনতে দেখা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই সংস্কারকাজ শুরু করেছেন, যা তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, “দুই যুগ ধরে সড়কটি অবহেলিত ছিল। এমন অবস্থা হয়েছিল যে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রতিদিন প্রায় পাঁচটি গ্রামের মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিজের অর্থায়নে কাজ শুরু করেছি। তবে স্থায়ী সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
স্থানীয় কৃষক ফজল করিম ও বদিউল আলম বলেন, বছরের পর বছর এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি। ধান আনা-নেওয়ার সময়ও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি।
ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম শামীম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।
স্কুলশিক্ষার্থী ফাহিম এবং কলেজশিক্ষার্থী তানিম ও সাকিব হোসেন বলেন, বর্ষাকালে স্কুল-কলেজে যেতে অনেক কষ্ট হতো। এখন আশা করছি সমস্যার সমাধান হবে।
বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব তমিজুল আলম বলেন, এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে আশি ঊর্ধ্ব রাবিয়া বেগম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে খুব কষ্ট হতো। এখন কাজ হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে।”

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL