বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দিনাজপুরে একযোগে৫৩ খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনের পাশাপাশি নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া সুধী সমাবেশ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন। ইতিমধ্যে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনে দিনাজপুরে বইছে উৎসবের আমেজ। সর্বত্র নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর আগমন দিনাজপুরে উন্নয়নের বার্তা বয়ে আনবে এমনটাই মনে করছেন সকলে। আজ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় খাল খনন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দফায় দফায় মন্ত্রী, এমপি এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা খাল খননের স্থান পরিদর্শন ও অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী, বক্তব্য স্থানসহ প্রধানমন্ত্রী গমনের স্থানগুলো সুসজ্জিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
সাহাপাড়ার প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের ফলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এতে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে। খাল খননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খাল নির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বেই পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল খননের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে, তেমনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব এবং শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রেখে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমবে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা দেশকে মরুভূমি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজধানী ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের দিনাজপুরে এই প্রথম সফর। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা তথা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের তৃণমূল পর্যায় থেকে জেলা শহর ও সর্বত্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সাধারণ মানুষের মনেও দেখা দিয়েছে বাঁধভাঙা উল্লাস।