চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং | ছবি: NewsBangla.net
চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং প্রেমের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার হয় ছাত্রদল নেতা জিসান চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৬) হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কক্সবাজারের সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ। এ সময় থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে দাবি করে তিনি বলেন, মূলত: জিসান হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি রেজিয়া সুলতানার সাথে প্রেমের সম্পর্ক (পরকীয়া) এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরেই ভাড়াটে লোক দিয়ে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে জিসানকে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কাল্লু ড্রাইভার এবং জিসাত মিয়া প্রকাশ শওকত ড্রাইভার নামের দুইজন গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক অপহরণ ও কিলিং মিশনে ব্যবহৃত একটি নোয়া গাড়ি, একটি আইফোন জব্দ করা হয়। সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ আরো বলেন, পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার দুই গাড়ি চালকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের সাথে আরো যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে মাঠে রয়েছে পুলিশ। তবে মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম পরিচয় খোলাসা করেননি সহকারি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ। প্রেস ব্রিফিংয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আরিফুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর আলম মাসুম সিদ্দিকী, হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান তানিমসহ থানার অন্যান্য পুলিশ অফিসারগন উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত: গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১১টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসান। এ সময় একটি সাদা রঙের নোয়া গাড়িতে করে তাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করে জিসানের পরিবার। অপহরণের ৪ ঘন্টা পর ভোররাত তিনটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী মেদাকচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালা এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জিসানের বড় ভাই কাইচার হামিদ বাদী হয়ে রেজিয়া সুলতানা ও তার চারভাই মোহাম্মদ জকরিয়া, নাজিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মিনহাজ উদ্দিন, বেগম নাজিম ও একে তারেকসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। এ মামলায় এজাহার নামীয় আসামি ছাড়াও আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে দেখানো হয়। গ্রেপ্তার দুই চালক হলেন-চকরিয়ার কাকারা সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় জড়িত পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতাসহ অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করাসহ গ্রেপ্তারে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া দুই গাড়ি চালক আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কাল্লু ড্রাইভার এবং জিসাত মিয়া প্রকাশ শওকত ড্রাইভার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।